প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ৮:৪৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ৪, ২০২৫, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
দৃষ্টান্তমূলক সাফল্যে,জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে তারাগঞ্জের ইউএনও রুবেল রানা দেশের দ্বিতীয়

নাজিম ইসলাম, জেলা প্রতিনিধিঃ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের জাতীয় মূল্যায়নে নজির গড়েছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা। ২০২৪-২৫ বছরের বার্ষিক মূল্যায়নে উপজেলাটি লক্ষ্যমাত্রার ১৩৩.৪০ শতাংশ অর্জন করে সারাদেশে দ্বিতীয় এবং রংপুর বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এ সাফল্যের নেতৃত্ব দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল রানা, রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের হার বৃদ্ধিতে তারাগঞ্জ উপজেলা দেশের অন্যান্য উপজেলাগুলোর জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। প্রথম স্থান অর্জন করেছে চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলা (১৩৫.২২%), তৃতীয় হয়েছে সীতাকুন্ড।
ইউএনও রুবেল রানা বলেন, “তারাগঞ্জের এই অর্জন একদিনে হয়নি"এই সাফল্য কেবল প্রশাসনের নয়—এটি তারাগঞ্জবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ইউনিয়ন পরিষদ, উদ্যোক্তা, গ্রাম পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
প্রশাসনের কঠোর তদারকি, ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, স্কুল ও কলেজে প্রচার, এবং গ্রাম পুলিশের ঘরে ঘরে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ এই সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। কুর্শা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফজালুল হক বলেন, “জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের অন্যতম মাধ্যম। এটি ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট বা সরকারি সেবায় অংশ নেওয়া কঠিন।”
কুর্ইশা উনিয়নের উদ্যোক্তা মোহাজ্জেম হোসেন জানান, “ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও নির্ভুল সেবা নিশ্চিত করেছে। আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পাচ্ছি, যা আমাদের কাজকে আরও জনবান্ধব করেছে।”
এক সময় যে তারাগঞ্জে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ছিল অনিয়মিত ও অবহেলিত প্রক্রিয়া, এখন সেখানে নিয়মিত মনিটরিং এবং ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে এবং মৃত্যুর ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে পিছিয়ে থাকা রংপুর বিভাগের মধ্যেই তারাগঞ্জের এই অগ্রগতি দেখিয়ে দিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা, নেতৃত্ব ও জনগণের অংশগ্রহণ থাকলে যে কোনো খাতে বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব। উপজেলা প্রশাসন আশাবাদী, ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং তারাগঞ্জ সারাদেশে অনুকরণীয় একটি মডেল হিসেবে পরিচিত হবে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫